প্রথম দেখায়ই প্রেম! - আব্দুল কাইয়ুম

বিষয় - কার্যকারণ (প্রেম, ভালোবাসা, জিন, কোষ, প্রসাধন, সেন্ট, পারফিউম)

প্রকাশের তারিখ - 27 ফেব্রুয়ারি 2008

   

প্রেম-ভালোবাসার বিষয়টি অনেকটাই ভাব বা চেতনাগত ব্যাপার৷ চোখের দেখা সহায়কের ভূমিকা পালন করে৷ সেখান থেকে আবেগ এবং তারপর প্রেম৷ সুতরাং প্রেমকে চোখের ব্যাপার বলেই ধরে নেওয়া হয়৷ তবে সম্ভাব্য জুটি একে অন্যের চিন্তাভাবনা, চালচলন, বন্ধুর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি, মানবতাবোধ প্রভৃতিও বিচার করে৷ সব দিক বুঝেশুনে তবেই না ভালোবাসা! আজকাল বলা হয়, ভালোবাসা শুধু দৃষ্টির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়৷ অনেকে বলেন, এখানে প্রসাধনেরও কিছু ভূমিকা রয়েছে৷ মানুষ যে নিজেকে আরও সুন্দর ও আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপনের জন্য পাউডার, ক্রিম ও সুগন্ধি ব্যবহার করছে, তার পেছনে নিশ্চয়ই কিছু কারণ আছে৷

কয়েক বছর আগে সুইজারল্যান্ডের এক গবেষক কিছু নারী কর্মীকে কয়েকজন ছেলের তিন দিনের ব্যবহৃত টি-শার্ট দিয়ে একটি পরীক্ষা চালান৷ তিনি দেখতে চান, কার কাছে কার গায়ের গন্ধ ভালো লাগে৷ এরপর তিনি ছেলে ও মেয়েদের ডিএনএ বিশ্লেষণ করেন৷ বিশেষভাবে তিনি এমএইচসি (মেজর হিস্টোকম্পাট্যাবিলিটি কমপ্লেক্স) জিনটি পর্যবেক্ষণ করেন৷ এই জিন রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করার পাশাপাশি প্রেমাবেগ সৃষ্টিতেও অবদান রাখে৷ দেখা গেছে, যে মেয়ের কাছে যে ছেলের টি-শার্ট ভালো লেগেছে, তার এমএইচসি জিন মেয়েটির ওই জিনের চেয়ে ভিন্ন ধরনের৷ আরও দখা গেছে, একই ধরনের এমএইচসি জিনের অধিকারী মেয়েরা একই ধরনের বাণিজ্যিক সুগন্ধি (পারফিউম) পছন্দ করে৷ এতে বোঝা যায়, এসব পারফিউম যতটা না শরীরের দুর্গন্ধ দূর করে, তার চেয়ে বেশি হয়তো বন্ধু বা বান্ধবীকে আকর্ষণে অবদান রাখে৷

এমএইচসি জিনের ভিন্ন ধরন যে পরস্পরকে আকর্ষণে অবদান রাখে, সে বিষয়টি বিবর্তনবাদের দৃষ্টি থেকে বিশ্লেষণ করা যেতে পারে৷ কারণ, ভিন্ন ধরনের এমএইচসি জিনের মিশ্রণ পরবর্তী বংশধরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার প্রসারে সাহায্য করে৷ তাই প্রকৃতিই হয়তো প্রেমের পেছনে চোখের সঙ্গে নাকের একটি ভূমিকা নির্ধারণ করেছে৷ আর প্রসাধনশিল্পের মালিকেরা সেই সুযোগে ব্যবসা জুড়ে বসেছে৷ তবে হাজার মাইল দূর থেকে ই-মেইলেও প্রেমের সূত্রপাত ঘটে৷ সেখানে চোখের দেখা বা পারফিউম বিকল৷ প্রেম বড়ই রহস্যময়!


প্রথম আলোর ছুটির দিনের আব্দুল কাইয়ুমের কার্যকারণ থেকে সংগৃহীত


   

মন্তব্যসমূহ (00)

এই প্রবন্ধটি আপনার কেমন লেগেছে তা জানাতে পারেন ইমেইল করে