বিষয় - কার্যকারণ (পৃথিবী, ভূ-গোল, গ্রহ, নক্ষত্র, সূর্য, সৌরজগত, গোলক, গোলাকার, আকৃতি, গোলাকৃতি)
প্রকাশের তারিখ - 9 মার্চ 2008
শুধু পৃথিবী নয়, অন্যান্য গ্রহ, চাঁদ, সূর্য বা এক কথায় মহাবিশ্বের গ্রহ-নক্ষত্র সবই গোলাকার৷ চ্যাপ্টা বা লম্বা হয় না৷ মহাজাগতিক বস্তুগুলো গঠনপ্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই সাধারণত গোলাকার ধারণ করে৷ এর প্রধান কারণ হলো মাধ্যাকর্ষণ শক্তি৷ এই শক্তি গ্রহগুলোকে গোল বানিয়ে ফেলে৷
সূচনালগ্নে পৃথিবীর উপরিতল শক্ত হয়ে যখন ভূত্বক গঠিত হচ্ছিল, সে সময়ই মাধ্যাকর্ষণ শক্তির টানে সে গোলাকার রূপ নেয়৷ এটা বোঝার জন্য আমরা পৃথিবীর ওপর একটা বড় পাহাড় বানানোর কল্পনা করতে পারি৷ যখন মাটি বা পাথর জমা করতে থাকব তখন দেখা যাবে ওপরের বস্তুর চাপে নিচের স্তর ভেঙে যাচ্ছে৷ পৃথিবীর ওপর কয়েক মাইলের বেশি উঁচু পাহাড় টিকিয়ে রাখা কঠিন, কারণ ওপরের বস্তুর চাপ সহ্য করার মতো শক্ত বস্তু নেই৷ পৃথিবীর ভেতরের খনিজ পদার্থগুলো তরল অবস্থায় রয়েছে৷ ভূ-কেন্দ্রের এই তরল পদার্থ হিমালয়ের চেয়ে উঁচু পাহাড় বহন করতে অক্ষম৷ যদি সে রকম উঁচু পর্বত থাকত, তাহলে তা কার্যত ভূ-অভ্যন্তরের তরলে ডুবে নিচু হয়ে যেত৷
এ কারণে শুরুতে কোনো গ্রহ যদি লম্বা বা চ্যাপ্টা হয়েও থাকে, তাহলেও সেটা ক্রমে গোলকের রূপ ধারণ করেছে৷ অবশ্য পাহাড়-পর্বত কিছু থাকবেই৷ কিন্তু দূর থেকে সেটা গোলাকারই দেখাবে৷ সেই অর্থে পৃথিবী গোলাকার, যদিও পাহাড়-সমুদ্র-নদীর কারণে কিছুটা উঁচু নিচু৷ তবে পৃথিবীর উত্তর ও দক্ষিণ মেরু যে কিছুটা চ্যাপ্টা, তার কারণ হলো পৃথিবীর আহ্নিক গতি৷ পৃথিবী নিজ অক্ষরেখার চারপাশে লাটিমের মতো ঘুরছে৷ এর ফলে কেন্দ্রাভিমুখী ত্বরণ (সেন্ট্রিপিটাল এক্সেলারেশন) সৃষ্টি হয়৷ এর প্রতিক্রিয়ায় বিষুবরেখা অঞ্চলের ভূপৃষ্ঠ কিছুটা বাইরের দিকে ফুলে ওঠে, আর দুই মেরু অঞ্চল কিছুটা চ্যাপ্টা হয়ে আসে৷ তবে বলা যায়, গড়পরতায় পৃথিবী গোল৷